Repair the color -একটি পথের ইশকুল উদ্যোগ
আগামী লাইভ

চ্যারিটি কোনো দীর্ঘ মেয়াদি সমাধান নয়। তাই আমরা পথের ইশকুলের পক্ষ থেকে করোনা দুর্যোগে যারা কর্মহীন হয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য কিছু করার উদ্যোগ নিয়েছি। এই ক্রান্তিলগ্নে এসব মানুষের খাবারের জন্য যেনো লাইনে না দাঁড়াতে হয়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য আমরা তাদের কে সল্প পুঁজিতে ব্যবসার ব্যবস্থা করা শুরু করেছি।

এরকম একজন মানুষ হচ্ছে আমাদের পথের ইশকুল এর শিক্ষার্থী জেসমিন। আমাদের স্কুলের শুরু থেকেই জেসমিন ও তার তিন ভাই বোন বিপ্লব, গোলাপ, সুজানা আমাদের স্কুলের নিয়মিত শিক্ষার্থী।

জেসমিনকে পথের ইশকুলের শিশুরা টম বয় বলেই জানে, কিন্তু জেসমিনের টম বয় হবার গল্পটা অনেকেরই অজানা।

করোনার আগ অবধি জেসমিনকে এক নজর দেখে কারো বলার উপায় ছিল না যে সে মেয়ে।

জেসমিন নিজের নারী পরিচয় গোপন রেখে ছেলেদের মতো জীবন সংগ্রামে নেমেছে সেই সাত বছর বয়স থেকেই। কিন্তু ভিক্ষা তার পছন্দ ছিল না বলেই জেসমিনের জীবন যুদ্ধটা একটু না… ভীষণ রকম কঠিন ছিল।

তার বাবা পরিবার এর প্রতি যে দায়িত্ব, তা পালন না করে চারটা সন্তান জন্ম দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। জেসমিন পরিবারের বড় সদস্য হওয়াতে মা সহ বাকি ২ ভাই এবং ছোট বোনের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়।

কখনো শরবতের দোকানে কাজ করে আবার কখনো চায়ের দোকানে কাজ করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করেছে এই ছোট্ট মেয়েটা।

কিন্তু যতদিন যাচ্ছিল জেসমিন নিজের শারীরিক পরিবর্তন লুকাতে না পেরে টম বয় থেকে জেসমিনে পরিনত হলো। কিন্তু এতে তার কাজ করা আর সম্ভব হলো না।

জেসমিন মেয়ে তাই কাজ করা তার জন্য এখন এত সহজ না। প্রায় সময় তাকে যৌন হয়রানির স্বীকার হতে হতো।

একটা সময় কাজ না করতে পারাতে খুব বেশি হতাশ হয়ে পরে জেসমিন। তীব্র হতাশা থেকে ঝুঁকে পরে মাদকের আসক্তিতে৷

পথের ইশকুল এর নিবিড় পরিচর্যা ও কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে আমরা জেসমিন কে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনেছি।

জেসমিন যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এবং পরিবারকে নিয়ে সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকতে পারে তার জন্য আমরা জেসমিনের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

পথের ইশকুল ও Empower Me এর সহযোগিতায় আমরা জেসমিন এর হাতে তুলে দিয়েছি তার স্বপ্নের শরবতের গাড়ি।

আমরা আশাবাদী… আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় ধূসর হয়ে যাওয়া জীবনটাকে কিছুটা হলেও রঙিন করে তুলতে পারবে আমাদের প্রিয় জেসমিন।

মন্তব্য করুন