ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ শেখার প্রতি ঝোঁক থেকেই তিনি বিভিন্নরকম প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পরবর্তীতে সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে পণ্য উৎপাদন ও বিক্রিও করেছেন। সমাজে বহু নারী যারা বাচ্চা দেখাশোনা বা পারিবারিক কারনে চাকরি করতে পারেন না অথচ উপার্জনের রাস্তা খুঁজে চলেছেন তারা হস্তশিল্প প্রশিক্ষন এর মাধ্যমে ঘরে বসেই এই নিজেকে উপার্জনক্ষম করে তুলতে পারছেন তাই তিনিও উদ্যোক্তা হতেই পছন্দ করেছেন।

আমরা বলছি উদ্যোক্তা খুরশিদা রনি’র কথা। রংধনু ফাউন্ডেশন নামে হস্তশিল্প প্রশিক্ষন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। ২০১৩ সাল থেকে নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন রান্না, টেইলারিং, কেক, বিস্কুট, ব্রেড, এপলিক, কুরুশ ব্লক বাটিক টাইডাই, ন্যাচারাল ডাই, স্ক্রিনপ্রিন্ট, ইত্যাদি বিষয়ে । লাচ্ছাসেমাই, কেক ও মিস্টি আইটেম বিক্রী করেন।

তিনি ঢকার মিরপুর-১ এ রংধনু ফাউন্ডেশন-এর নিজস্ব কার্যালয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন এবং এলাকাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এর আয়োজনো করে থাকেন।

তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ পরিবার। বিশেষ করে একজন নারী যখন কোন উদ্যোগ গ্রহন করে প্রথমেই তাকে পিছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তারপর সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, মুলধনের অভাব।

তিনি আরও বলেন, তবে পরিবার কে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি যে আমি এমন একটা উদ্যোগ গ্রহন করেছি যেখানে আরও ১০০ জন নারীর অবস্থান উন্নত হবে। সমাজে ভালো ভাবে বাঁচতে পারবে। এখন পরিবার থেকেই সহযোগিতা পাই । আর এটাই উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতা বলে মনে করি।

তিনি রংধনু ফাউন্ডেশন কে ছড়িয়ে দিতে চান সারাদেশে। দুরের প্রশিক্ষনার্থী রা অনুরোধ করেন কবে ঢাকার বাইরে এমন শেখার উপযুক্ত জায়গা তারা পাবেন। স্বপ্ন দেখেন দেশের ৬৪ জেলায় রংধনু ফাউন্ডেশন এর ৬৪ টা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকবে যেখান থেকে লাখো নারী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও উপার্জনক্ষম হয়ে উঠবেন।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ ইয়ূথ এন্টারপ্রাইজ অ্যাডভাইস এন্ড হেল্প সেন্টার (বি’ইয়া) হতে ব্যবসার ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রতিষ্ঠানকে গুছিয়ে নিয়েছেন। বি’ইয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

সৃজনশীল উদ্যোক্তা খুরশিদা রনি বেড়ে উঠেছেন জামালপুর জেলার সরিষাবাড়িতে।

মন্তব্য করুন