রং তুলিতে কোন প্রতিকী যখন সুন্দরভাবে পরিপূর্ণতা পায় তখনই তাকে শিল্প বলে। আর যার হাতের স্পর্শে এই কর্মটি সম্পাদন হয় তিনি হলেন শিল্পী। একজন শিল্পী চারিদিকের নানান রুপময় বৈচিত্র ও প্রকৃতি তার চিত্রে ফুটিয়ে তোলেন। তেমনি একজন শিল্পি উদ্যোক্তার নাম ড চিং চিং ।

পড়ালেখা শেষ করে চাকরী করবেন এই স্বপ্নকে লালিত করে চৌত্রিশ বছর বয়সী ড চিং চিং পাহাড়ী উপত্যকা থেকে সমতলে নেমে এসেছিলেন, নানান স্থানে ঘুরে হতাশার ঘূর্ণিপাকে ক্লান্ত মন চাকুরির প্রত্যাশা ছেড়ে নতুন ভাবে বেঁেচ থাকার অবলম্বন খুঁজতে থাকেন।

ড চিং চিং এর ছোট বেলা থেকেই আকাঁআঁকির প্রতি ভীষণ আগ্রহ ছিল। সুযোগ পেলেই খাতা পেন্সিল নিয়ে আঁকতে বসে যেতেন। চারিদিকের গাড়ি কিংবা রিক্সার পেছনে নানা ধরণের বিজ্ঞাপন বা ছবি আঁকা গুলো তাকে বিমোহিত করতো। ছোট বেলার সেই বিজ্ঞাপন গুলোই তার আকাঁআঁকির পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি রিক্সার ছবি আর্ট করতে শুরু করলেন, কিছু দিন যাবার পর তার হাতের কাজ গুলো বেশ সুনাম হতে লাগলো। তিনি ভাবলেন এই শিল্পকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেওয়া প্রয়োজন। “ফিনারী” নামক প্রতিষ্ঠানের তিনি স্বত্বাধীকারী হয়ে নতুন উদ্দ্যমে শুরু করলেন তার আগামীর পথ চলা।

মাত্র ত্রিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করা “ফিনারী” প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পনের জন কর্মী রয়েছে। আর মূলধন হয়েছে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। থেমে নেই আঁকাআঁকির পথ চলা। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বোতল, অলংকার, মোবাইল কভারে রিক্সা ক্যানভাসের ছবি আকেঁন। শুধু তাই নয় এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন দেয়াল পেইন্ট, কাঠের পেইন্ট করে থাকেন। ড চিং চিং বলেন, এই শিল্পের কদর শেষ হয়ে যায়নি, বরং শহরের ইট কাঠের দেয়ালে মানুষ প্রকৃতিকে খুঁজে ফিরে।

“ফিনারী”বিভিন্ন পেইন্ট নিয়ে মেলাতে অংশগ্রহন করে বেশ সুনাম অর্জন করেছে। একটি দৈনিক প্রত্রিকায় প্রতিবেদন ও প্রকাশ করেছে।
ব্যবসার জন্য চাই নির্ভূল পরিকল্পনা ও নির্দেশনা। ব্যবসার শুরুর দিকে যা এই প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি ছিল, বাংলাদেশ ইয়ূথ এন্টারপ্রাইজ অ্যাডভাইস এন্ড হেল্প সেন্টার(বি’ইয়া) সেই ঘাটতি পূরণে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করেছে। তার কথায়, বি’ইয়ার নিকট আমি চিরকৃতজ্ঞ, আমার এ পথচলায় সহযোগিতা করার জন্য। আমি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে জেনেছি ব্যবসার খুঁটিনাটি বিয়ষ। যা আমাকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করেছে।  বি’ইয়াাকে ধন্যবাদ, একজন মেন্টরকে আমার ব্যবসা পরামর্শক হিসেবে পাওয়ার জন্যও।

আমি একজন শিল্পী ও উদ্যোক্তা, শিল্পের মাঝেই বেচেঁ থাকতে চাই। প্রকৃতির উদার দানকে রং তুলিতে মানুষের বিনোদনের অংশ করতে চাই এই স্বপ্ন নিয়ে আগামীতে “ফিনারীকে” একটি স্বনামধণ্য প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত করাই একমাত্র ব্রত।

মন্তব্য করুন