নিজের অস্তিত্বকে কিংবা নিজেকে মাঝে মাঝে খুব কাছ থেকে দেখতে ইচ্ছে করে। সব কৃত্রিমতা, মুখোসী পোষাক খুলে নিজেকে একজন মানুষ হিসেবে দেখার সাধ জাগলে- একটি দিনের অপেক্ষায় থাকি। নিজের শরীরমনের ক্ষত,খুঁত, ভাললাগা, চাওয়া পাওয়ার হিসেব, ব্যথা- বেদনার কাহিনী, ঠকানো বা ঠকে যাওয়ার হতাশা বা আনন্দ, খুব যতন করে তুলে রাখা অন্যের উৎসাহ- কটাক্ষ কিংবা ভালবাসা, আর প্রহর প্রহর ধরে মনে কোণে স্বপ্ন বোনা- ঈর্ষা, পরশ্রীকাতরতা, একটি আহা শব্দ– এসবই একটি দিনে এসে কেমন যেন বিলীন হয়ে যায়, মরে যায়, ক্ষয়ে যায়, পুড়ে ছাই হয়ে যায়, শুধু অনাবিল আনন্দে ভরে যায় মন, সেই দিন প্রতিটি পদক্ষেপ মনে হয় স্বগীয় ছোঁয়ায় ভরা,সময়গুলোকে সকলের আনন্দে কানায় কানায় পরিপূর্ণ করার, সকল দু:খ-কষ্ট,রোদন -বেদন– উঁচু-নিচু,ভেদাভেদ, মতভেদ- এক সরল রেখায় এসে মিলিত হয়ে সেই দিন- আমরা কেমন করে যেন সৃষ্টির সেরা জীবে পরিণত হয়ে যাই— যে দিন ঈদ বা পুজা কিংবা বড়দিন অথবা বৌদ্ধপূর্ণিমা।

নিজেকে ফিরে পাওয়ার, সকলকে একবিন্দুতে আনার, আনন্দে ভরার, পৃথিবীটা স্বর্গ মনে হওয়ার, নিজের ছেলেবেলাকে ফিরে পাওয়ার, কৈশোর-তারুণ্য- যৌবনকে খূব কাছে থেকে আবার নতুন করে অনুধাবণ করার, সেই দূরন্ত বয়সের ‍অক্রত্রিম বন্ধুদের খুঁজে পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠার, সেই কবেকার হারিয়ে যাওয়া ছেলেবেলার আবেগ, ভালবাসাকে প্রতিটি ক্ষণে অনুভব করার, ছোট থেকে বড় হওয়ার সেই নিজ ঘর,পরিবার,পাড়া মহল্লাকে হাজার হাজার দিন পরও সেরকমই দেখতে পাওয়ার, ভেদাভেদ ভূলে থাকার, উঁচু-নিচু, স্বার্থপরতা-বঞ্চনা ভূলে আবার নতুন করে অপেক্ষা বেঁচে থাকার প্রতীক্ষায় ঐ একটি দিনই বার বার বার বার ফিরে পেতে চাই খুব খুব খুব বেশি করে– সে আমার- আমাদের প্রাণের উৎসব —ঈদ।
প্রতিটি দিন হোক ঈদের দিন, প্রতিটি দিন হোক শান্তিময় এক নিরাপদ বিশ্ব–ঈদ মোবারক।

মন্তব্য করুন