করোনা পরবর্তী সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে জনবহুল দেশগুলোতে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অনেক দেশ নিজস্ব চাহিদা মেটাতে কমিয়ে বা বন্ধ করে দিতে পারে নানা পণ্য রপ্তানি। ফলে আমদানিনির্ভর দেশ ও এলাকাগুলোতে খাদ্যঘাটতি দেখা যে দেবে না, তাও নিশ্চিত করে বলা যায় না।

এই অবস্থায় খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে কৃষি৷ একসময় পাঁচ কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিলাম না। আজ তিন গুণের বেশি জনসংখ্যার খাদ্য উৎপাদনে আমরা সফল হয়েছি। করোনা–পরবর্তী সময়গুলোতেও যেন এ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকে, তাই এখনই সময় কৃষিতে প্রত্যেকের সংশ্লিষ্টতা বাড়ানোর৷

এ মুহূর্তে যাঁরা বাড়িতে আছেন বা যেখানেই আছেন, নিজের ও পরিবারের প্রয়োজনীয় ফসল, শাকসবজি, ফলমূল উৎপাদন করতে পারেন চাইলেই। আমাদের বসতবাড়ির আশপাশে, ছাদে যে জায়গাগুলো ফাঁকা আছে, তাতেও নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসবজি ও ফলমূলের চাষ করা যেতে পারে। তা ছাড়া এখন ধান কাটার মৌসুম চলছে৷ সামনে হয়তো বন্যা আসবে। অনাবাদিই থেকে যাবে জমিগুলো। এই সময়ে চাষ করতে পারি স্বল্পমেয়াদি নানা ফসল ও গবাদিপশুর খাদ্য। এখন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা খাদ্যখাটতি মোকাবিলার জন্য দরকার।
অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে বাংলাদেশ সরকার কৃষিকে যেভাবে গুরুত্ব দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য৷ কৃষিতে ৫০০০ কোটি টাকার প্রণোদনা, সার ও বীজ সহায়তা কৃষি ক্ষেত্রকে শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত করবে, যার সুফল সব স্তরের কৃষক যেমন পাবেন, আপনি আমি—সবাই পাব।

কোয়ারেন্টিনে কিছু কায়িক পরিশ্রম মানসিক প্রশান্তি দেবে, পাশাপাশি ছোট ছোট কাজ ব্যায়ামের মতো কাজ করবে, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতার উন্নতি ঘটাবে। একই সঙ্গে কৃষিতে যুক্ত থাকায় প্রকৃতির আলো–বাতাস গভীরভাবে উপলব্ধি করা যাবে৷ কোয়ারেন্টিনে থেকেই শাকসবজি, ফলমূলসহ মাছ, হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামার হতে পারে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনার একটি অবদান। অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনার, আমার—সবার অবদান সামান্য হলেও যেন অবশ্যই থাকে।

মন্তব্য করুন