বইয়ের নাম- এন্টিবায়োটিক। ‘এন্টিবায়োটিক’ নামটি শুনলে আমাদের মনে পড়ে যায় খুব বেশি জ্বর কিংবা অন্যান্য কঠিন রোগের কথা। বিশেষকরে প্রচন্ড জ্বরের কথা না বললেই নয়। শরীরের কোনো কোষ জীবাণু দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাকে ধ্বংস করতে এগিয়ে আসে টি-সেল। তখন তাদের মধ্যে যুদ্ধের মতো যে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়, সেটাকেই আমরা জ্বর বুঝি। আপাতদৃষ্টিতে জ্বর মানব শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য কিছুটা উপকারী মনে করা হলেও জ্বরের আধিক্যতা শরীরের কোষগুলোকে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে মানব অঙ্গকে চিরতরে অকেজো করতে পারে। আর সে কারণেই আমরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হই। ডাক্তার যখন নরমাল ঔষধ দিয়ে জীবাণুকে কাবু করাতে পারেন না, ঠিক তখনি তিনি আমাদের জন্য এন্টিবায়োটিক সাজেস্ট করেন। তেমনিভাবে আমাদের মুসলিম জাতিকে চারপাশ থেকে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস আক্রমণ করে বসেছে। আক্রমণের তীব্রতা এত বেশী যে, কোনো প্যারাসিটামলে কাজ হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে এন্টিবায়োটিক সেবন করতে হচ্ছে। বইটি লেখার কারণ- আমরা একটি উত্তাল সময় পার করছি। সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে পুরো পৃথিবী এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। যা কিছু ঘটছে প্রতিনিয়ত তা মুহূর্তেই আমাদের জানা হয়ে যাচ্ছে। মনেহচ্ছে পুরো পৃথিবীকে আমরাই শাসন করে বেড়াচ্ছি।
কবি নজরুলের ভাষায়-
পাতাল ফেড়ে নামব নীচে,
ওঠব আবার আকাশ ফুঁড়েঃ
  বিশ্ব-জগৎ দেখব আমি
আপন হাতের মুঠোয় পুরে।

সোস্যাল মিডিয়ার সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে কিছু গোষ্ঠী তাদের ভ্রান্ত মতবাদকে সহজেই প্রচার ও প্রসার করে যাচ্ছে। হোক সেটা সত্য কিংবা মিথ্যা। যদিও তারা আমাদেরই মুসলিম ভাই। কিন্তু তারা ব্রেনওয়াশ এর স্বীকার বলা চলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তারা ইসলামের নামে এমন সব আজগুবি বক্তব্য দিচ্ছে কিংবা লিখছে, যার সাথে কোরআন ও সুন্নাহর নূন্যতম রিলেশন নাই। এমনকি তারা শত বছরের মিমাংসিত বিষয়গুলোকে নিজেদের ফায়দা হাসিলের জন্য উসকে দিচ্ছে জনসমাজে। মূলত তারা সহীহ ফোবিয়ায় আক্রান্ত। ফলে প্রতিনিয়ত আমাদের মুসলমানদের বুকের বা-পাশে অবস্থান করা “পবিত্র ধর্ম ইসলাম” ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে দিনের পর দিন। কলেজ, ভার্সিটির ছাত্র ভাইদের ব্রেনওয়াশ করে আলেম সমাজের প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ মনোভাব ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের অজান্তে। কারন এ বিষয়ে এনালাইজ করার মতো পর্যাপ্ত ইলম্ তাদের নেই। সাধারণ মুসলমানগণ এত ইখতিলাফের ভিড়ে নিজেদের ঈমান ও আকিদা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে ইসলাম ধর্মের প্রতি তাদের অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে। দিনদিন মানুষজন ধর্মবিমুখ হচ্ছে এবং নাস্তিক্যবাদের মতো ভয়ঙ্কর ব্যাধির জন্ম হচ্ছে এই সমাজে। এমনকি মাদ্রাসার ছাত্ররাও তাদের কালোথাবা থেকে কোনোভাবে বাদ পড়ছেনা। তাই অধমের ব্রেনের সেরিব্রাম দীর্ঘদিন ধরে প্যারা দিচ্ছিলো, যাতে কোরআন ও সুন্নাহর সঠিক তথ্য গুলো কলমের মাধ্যমে পক্ষ-বিপক্ষের সকল মুসলমানদের নিকট পৌছিয়ে দেই। আমাদের হাজার বছরের আমলগুলো ভুল নয় বরং কোরআন ও সুন্নাহর মানদণ্ডে উন্নীত, তা সকলের নিকট দিনের আলোর ন্যায় প্রস্ফুটিত হোক। দূর হোক সহীহ হাদিসের নামে আমাদের ভাইয়ে-ভাইয়ে মারামারি। বজায় থাকুক আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক। আমাদের মসজিদ গুলো ঝগড়াবিবাদ থেকে সজীবতায় ফিরে আসুক। মুছে যাক গ্লানি আর ফিরে আসুক শান্তি, সৌহার্দ এবং সম্প্রীতি। আরেকবার আমরা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে চাই প্রাণ ভরে। এক কাতারে দাঁড়িয়ে ইখলাসের সাথে মহান রবকে সেজদায় মস্তক অবনত করতে চাই। যেখানে আমাদের এক মুসলমান ভাইয়ের প্রতি অন্য মুসলমান ভাইয়ের হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। সহীহ হাদিসের নামে দূরত্ব থাকবে না। আমরা সবাই মুসলিম,এটাই হবে আমাদের একতার প্রধাণ চালিকাশক্তি। স্বপ্ন দেখি, এন্টিবায়োটিকের অসীলায় সমাজটা পুনরায় ভাতৃত্ববোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আল্লাহ যেনো আমাদেরকে তার দ্বীনের খাদেম হিসেবে কবুল করে নেন এবং এই কলমকে উম্মাহর বিশাল খেদমত করার তাওফিক দান করেন, আমীন।

লেখক- শাহজাদা সাইফুল
প্রকাশনী- নিয়ন পাবলিকেশন
প্রকাশকাল- বইমেলা ২০২১
বইমেলায় স্টল- ৪৫২ নং
(কলম প্রকাশনী)

মন্তব্য করুন