কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ ইয়ূথ এন্টাপ্রাইজ অ্যাডভাইস এন্ড হেল্পসেন্টার-বি’ইয়া বাস্তবায়ন করে চলেছে অনলাইনভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম। ইতিমধ্যে গত মে মাস থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত বি’ইয়া দেধের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৪০০ উদ্যোক্তাকে অনলাইন প্রশিক্ষণ, ওয়েবিনার সেশন, অনলাইন মেন্টরিং, অনলাইন ব্যবসা পরামর্শ অব্যাহতভাবে প্রদান করে চলেছে। ১৮ থেকে ৩৫ বছরের তরুণ উদ্যোক্তা যারা করোনা পরিস্থিতিতে দিশেহারা, কি করবে বুঝতে পারছিলো না, তাদেরকে আত্নবিশ্বাস ও অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল দক্ষতা ও কৌশলের উপায় হিসেবে অনলাইনে প্রতিদিন সকাল, বিকেল এবং রাতে নিয়মিত অনলাইন আয়োজন অব্যাহত রেখেছে।

যারা ১৮ থেকে ৩৫ বছরের উদ্যোক্তা, কোভিড-১৯ সময়ে ব্যবসা বন্ধ রেখেছে বা করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না, তারা বি’ইয়ার সময়োপযোগি বিভিন্ন  অনলাইন কার্যক্রমে শুধু রেজিস্ট্রেশন করেই অংমগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে এসএমই সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা গুগল.ওআরজি’র  সহায়তায় প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।  এই পরিস্তিতিতে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন কিভাবে তাদের আগের চলমান ভ্যবসাটাকে অনলাইনে স্থানান্তর করবে, অনলাইন  বিপণন কৌশল বা পদ্ধতি কি হতে পারে, কিভাবে বিপুল সংখ্যক ক্রেতার সাথে অনলাইনে যুক্ত হওয়া যায়, কিভাবে নিজেদের পণ্যের ফটোগ্রাফি, ভিডিও ধারণ করে বিজ্ঞাপণ করবেন, করোনাকালীন সময়ে  এবং পরবর্তীতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক যোগাযোগ   প্রভৃতি বিষয়ে উদ্যোক্তারা  জানতে পেরেছেন এবং নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নে সহযোহিতা পেয়েছেন। বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক ওয়েবিনার সেশনে আন্তর্জাতিক মডেল আইকন বিবি রাসেল,  চলচিত্র  পরিচালনক দীপংকর দীপন, প্রেসিডেন্সি ইউনির্ভাসিটি অব বেঙ্গালুরুর ভাস্কর চট্টোপাধ্যায়, সাইথ-ইস্ট ইউনির্ভাসিটির প্রফেসর সৈয়দ ফকরুল হাসান মুরাদ, অনলাইন মেন্টরিং এক্সপার্ট মেহেদী হাসান কিংশুক,  ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট  মির্জা মো: ইলিয়াস, ইকমার্স প্রশিক্ষক, কৃষিবিদ ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মী মো: আকতারুজ্জামান    প্রভৃতি উক্ত ওয়েবিনার, অনলাইন প্রশিক্ষণ, স্কীল বেইজড ওয়েবিনার, মেন্টরিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনা করেছেন। প্রতিটি ওয়েবিনার সেশনে ১০ থেকে ১৫ কখনো ২০ জনের অধিক উদ্যোক্তা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে যুক্ত হন। বিশেষজ্ঞ আলোচক অনলাইন বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেশন পরিচালনা করেন। একইভাবে বলা যায়, অনলাইনভিত্তিক ই-কমার্স ও ডিজিটাল মার্কেটিং, এডভান্সন্ড ডিজিটাল স্কীল প্রশিক্ষণগুলো ৫ থেকে ৮ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে । বিষয়ভিত্তিক অনলাইন প্রশিক্ষণগুলো প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ঘন্টা পর্যন্ত পরিচালিত হয়। উদ্যোক্তারা ঘরে বসে উক্ত প্রশিক্ষণ ও য়েবিনারে অংশ নিয়ে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে নিজেদের ব্যবসাকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন কৌশল ও দক্ষতা উন্নয়ন করতে পারছে। এর ফলে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের তরুণ নারী পুরুষ উদ্যোক্তারা  বেকারত্ব, হতাশা থেকে মুক্ত হয়ে  নিজেদের ব্যবসাকে ডিজিটাল মাধ্যমে রুপান্তরে দিক নির্দশনা পাচ্ছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে সফলও হচ্ছে। অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনার প্রেক্ষিতে উদ্যোক্তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন অনেকে এভাবে, বাংলাদেশ সরকারে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার যে লক্ষ্য তা আমরা এই কোভিড-১৯ এ সুফল পাচ্ছি। আগে থেকেই ইন্টারনেট, অনলাইনে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতার ফলে এখন আমাদের ব্যবসাকে ডিজিটালে রুপান্তর করতে বি’ইয়ার যে সহযোগিতা তা সত্যিই প্রসংশনীয়।

গুগল.ওআরজির সহায়তায় পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে বি’ইয়ার অনলাইন কার্যক্রম বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সময়োপযোগি ও কার্যকরী উদ্যোগ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রায় ৫০০ তরুণ উদ্যোক্তাকে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সামলিয়ে স্বাস্থ্যবিধি পালন করে নিজেদের ব্যবসা অনলাইনে এগিয়ে নিতে বি’ইয়া কার্যকরী ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে উদ্যোক্তাদের দৃঢ় বিশ্বাস এবং বি’ইয়া’র কার্যক্রম ইতিমধ্যে উদ্যোক্তাদের মধ্যে কোভিড-১৯ মোকাবেলার জন্য আত্নবিশ্বাস যুগিয়েছে।

মন্তব্য করুন