যখন তোমার কোনো চোখে দেখার মতন নাই আলো
বুকের ভিতর দখিন হাওয়া সুরের আবেশ নাই ভালো
আশার আকাশ ঈগল মেঘের কালো পাখায় যায় ঢেকে
মনের সবুজ পাতায় পাতায় আগুন জ্বলে কায় থেকে
অনেক নিবিড় প্রীতির বাঁধন অনেক শিথিল হয় যদি
ভালোবাসার আরশি উঠান বিষের জলের হয় নদী
জীবন যাপন স্বপন যখন সকল রকম হয়রে শেষ
তবু তোমার শিশির সতেজ আছে বাঁচার রঙের রেশ
সে রঙ আলোর সে রঙ ভালোর সে রঙ অনুভূতির নাথ
আশার সমান ভাষার সমান প্রিয় মানুষ রবীন্দ্রনাথ।

ঝরনা পাহাড় নদীর সবই শুকায় যদি বাংলাদেশ
আষাঢ় শ্রাবণ জাগর জলের উধাও হয়রে পরিবেশ
সাঁঝের দাদুর ঝিঁঝিঁর গীতি হারায় বনে বাদল দিন
নতুন ধানের মাতাল সুবাস আকাল এসে করে লীন
কিষাণ পাখির নিঝুম বেলায় কুলায় ফেরা না হয় আর
চাঁদের আলোয় চয়ন মাঝি যায়রে ভুলে পারাপার
গোলাপ বকুল কদম কেয়া জবার যদি না রয় ঘ্রাণ
বৃক্ষ ছায়া গ্রামের মায়া রাখাল বাঁশির ফুরায় প্রাণ
তোমার রূপের ভুবন ভরে আঁধার নেমে আসে রাত
তবু তুমিই জগৎ আলোক তোমার আছে রবীন্দ্রনাথ।

বিশ্ব তোমার স্বাধীনতার কপাট যদি লাগায় কেউ
আগলে ধরে মানবতার অবাধ চলার উজান ঢেউ
কথার কণ্ঠে কুলুপ মালা পরায় পাষাণ স্বৈরাচার
মুক্ত পুঁজির গোপন ছুড়ির আঘাত আসে বারংবার
বিবেক সাহস মূল্যবোধের হারায় দিশা প্রাজ্ঞজন
শোষণ করে সাধারণের সঞ্চয়িতা সোনার ধন
সত্য শুভ আলোর পথে কেউ যদি আর না চলে
আন্তঃহৃদয় ব্যথার কথা দরদ সুধায় না বলে
তবু তোমার অহং করার আছে নিত্যকালের সাথ
মানুষ জাতির অপার আয়ু এক পৃথিবী রবীন্দ্রনাথ।

মন্তব্য করুন