রাশিদা আক্তার জান্নাত (২৭)একজন সাহসী ও স্বাধীন নারী উদ্যোক্তা। তিনি চ্যালেঞ্জ নিতে এবং নতুন নতুন বিষয়ে শিখতে ফছন্দ করেন। পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান হওয়ায় তিনি তার পরিবারের অনেক দায়িত্ব পালন করছেন এবং একাই তার ব্যবসাকে পরিচালনা করছেন। হুর কালেকশন এখন অনলাইনে পরিচিত একটি নাম।

আমরা জানি  রাশিদা জান্নাতের বাবা মেয়ের ব্যবসায় চেয়ে চাকরির প্রতিই অনুরাগি ছিলেন। কারণ তিনি নিজে ব্যবসা করতে পারেননি। কিন্তু রাশিদা জান্নাত  তার বাবার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি নিজেকে ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করছিলেন। তিনি দৃ determined়প্রতিজ্ঞ ছিলেন যে তিনি একদিন সফল হবেন। তিনি  নিজে উদ্যোক্তা হয়ে তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবেন ।

২০১৬ সালের দিকে মায়ের অসুস্থতার জন্য তাদের ভয়ানক অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় ।  পরিবারের একমাত্র সন্তান হিসেবে রাশিদা পরিবারের জন্য  কিছু করতে চেয়েছিলো। সে ১২ তম ক্লাস থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি শূরু করেছিলেন এবং বেশ কিছু চাকরি করার পর সিদ্ধান্ত নেন নিজেই ব্যবসা শুরু করবেন। নিজের মত চলবেন, আর্থিকভাবে সচ্ছল হবেন।  তিনি বলেন, পড়াশুনার সময় তিনি নিজের পোশাকের নকশা নিজ্ ই করতেন যা অন্যরা প্রশংসা করতো। প্রথমদিকে তিনি ডিজাইন ও পোশাক তৈরির কথা ভেবেছিলেন। তবে এটি কার্যকর হয়নি। তিনি বিক্রি করতে পারেন এমন বিভিন্ন আইটেমের সন্ধান করেছিলেন। এরপর তিনি মোটামুটি ধারণা থেকে ২০১৭ সালের প্রথম দিকে  বিভিন্ন খেলনা সামগ্রী বিক্রির উদ্যোগ নেন। এজন্য তিনি প্রাথমিকভাবে বাচ্চাদের আইটেম যেমন বাচ্চাদের মজাদার পোশাক এবং গেমস / প্লে আইটেম (যেমন এলসা, আনা, সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান, শিশুর পায়খানা / রান্নাঘর / ড্রেসিং টেবিল ইত্যাদি) দিয়ে শুরু করেছিলেন।   এরপর বি’ইয়ার সাথে যুক্ত হন ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে। তারপর থেকে তিনি তার ব্যবসাটাকে ভালই চালিয়ে নিচ্ছিলেন। ধীরে ধীরে রাশিদা রান্নাঘরের আইটেম, গ্যাজেটস, ফ্যাশন এবং বিউটি পণ্য ইত্যাদি বিপণন করা শুরু করেন।

হুর কালেকশন এখন অনলাইনে পরিচিত একটি নাম

কিন্তু কোভিড-১৯ তাকে দিশেহারা করে তোলে। গত মার্চ থেকে প্রায় আড়াই মাস বন্ধ ছিলো তার ব্যবসা এবং লকডাউনের কারণে তিনি চলাফেরা করতে পারেননি। রাশিদা উল্লেখ করেছেন “আমি আর্থিক ও মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম।   কিভাবে পনরায় উঠে দাঁড়াবো ভাবছিলাম, তবে মনোবল হারাইনি। এরই মধ্যে গত মে মাসের ২২ তারিখে  বিইয়া থেকে ডাক পাই।  আমি বি’ইয়া’র একটি ওয়বেনিার প্রথম অনলাইনে যুক্ত হয়ে কোভিড-১৯  মোকাবেলার করার বিভিন্ন বিষয়ে জানতে পাই।  এরপর বিইয়ার রেপিড রেসপন্স এন্ড রিকোভারী প্রোগ্রামের আওতায় ৫ দিনের অনলাইন ই-কমার্স এন্ড  ডিজিটাল মার্কেটিং এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এই  প্রশিক্ষণটি আমার জন্য একটি অন্যতম প্রেরণা ছিল।  এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আমি অনলাইনে বিপণনের বিভিন্ন বিষয় ও কৌশল সম্পর্ জেনেছি, বুঝেছি এবং তা আমার ভ্যবসায় বাস্তবায়ন করেছি। তবে অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার কিছু সমস্যাও ছিলো  আমার বিক্রয় বৃদ্ধি পেয়েছে, আমার স্টক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রতিদিন, যেমন নেটওয়ার্নক সমস্যা, পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা ইত্যাদি।   এই প্রশিক্ষণ নেয়ার পর আমি অনলাইনে বিশেষ করে ফেসবুকে নিয়মিত আমার পণ্যের প্রমোশন করছি, বিভিন্ন জনের সাথে নেটওয়ার্ক করছি যা আমার ব্যবসাকে আগের তুলনায় আরো বেশি সমৃদ্ধ করছে। যদিও কোভিড-১৯ পেনডামিক এখনো শেষ হয়নি, কিন্তু আমি এরই মধ্যে আমার ব্যবসাকে পুনরায় ভালো করেছি। কোন কর্মী ছাঁটাই করিনি। যেহেতু আমার পণ্য এখন ১০০% ই অনলাইন ভিত্তিক তাই পণ্য ডেলিভারীরর সময় কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়নি নিশ্চিত করেই কাজ করছি।

রাশিদা জান্নাত আরো বলেন, মার্চের আমার কর্মী ছিলো ৭ জন এখনো তারাই রয়েছে। আমি আমার ব্যবসাকে পুরোপুরি অনলাইন নির্ভর করেছি। নিয়মিত  আমার পণ্যের পোস্ট ও রিভিউ করছি। কাস্টমারের সন্তুষ্টির প্রতি খেয়াল রাখি, মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করি। রাশিদা জান্নাত বলেরন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে যখন মানুষ আমাকে মূল্যায়ন করে তখন খুবই ভালো লাগে। মিরপুর ১১ তে আমার হুর কারেরকশনের নিজস্ব অফিস আছে, সেখান থেকে ব্যবসা পরিচালনা করি, নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ব্যবসা পরিচালনা করি।  বিইয়ার মাধ্যমে মেন্টর পেয়েছি, যে কোন সমস্যায় আমি মেন্টর কাছে সহযোগিতা পাই। এখন আমি আগের থেকে অনেক বেশি আত্নবিশ্বাসী ও দক্ষ।

অন্য তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কিছু পরামর্শ দেওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে রাশিদা জান্নাত বলেন, পরামর্শ দেওয়া মত অভিজ্ঞতা আমার এখনো হয়নি। তবে এটা বুঝি যে, উদ্যোক্তাদেরকে সৎ ও ধৈর্যশীল হতে হবে।  তাদের যথাসম্ভব নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে।  নিজের দুর্বলতাগুলি শক্তিতে পরিণত করতে হবে। আর বেশি বেশি চেষ্টা করে যেতে হবে এবং লেগে থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন