যতদূর মনে পড়ে দিনটি হবে ২০০০ সালের কোনো একদিন। মাইজদি শহরের হাসপাতাল রোড়ে আজাদ মঞ্জিলে এক দুপুরে হঠাৎ উপস্থিত রফিক ভাই। সাথে কোম্পানীগঞ্জের সাংবাদিক জাফর ভাই। আমি রফিক ভাইকে নোয়াখালীতে দেখে অবাক হলাম এবং খুশী হলাম প্রথম দর্শনে। কিন্তু মাথায় হেলমেট ও পিঠে ব্যাগ দেখে অবাক হলাম এতদূরে মোটর সাইকেলে আগমন! মুহুর্তেই খোলাসা করে বললেন, অবাক হয়েন না, আমি আপনার আশপাশেই থাকি, সেইজন্যে মোটর সাইকেলে এসেছি। আমি এখন কোম্পানীগঞ্জে চাকরি করছি। আমি আপনার এখানে আসলাম, এরপর আপনি আমার এখানে যাবেন। এলাকার লোক দেখলে ভাল লাগে।

এরপর আরো দুএকবার দেখা হয়েছে নোয়াখালীতে। আমি কয়েকবার যাব যাব করে একবারও যেতে পারি নাই। এরপর যতবারই কথা হয়েছে রফিকভাই ততবারই বলেছেন, আরে মিয়া একদিনও তো আইলেন না’?

রফিক ভাই আমার চে’ হয়তো এক’দুবছরের বড় হবেন। ধনবাড়ী কলেজে (১৯৮৫ সাল) পড়াকালীন পরিচয় হয়। সদা হাস্যজ্জল, কাঁচা সোনার মত ফর্সা শরীর। সেই সোনালী রঙ এর শরীরে মরণব্যধি অসুখ নিয়ে অনেকদিন যুদ্ধ করে করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে পরাভূত হলেন অথবা মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করলেন।

গত ১০ মে ২০২০, রাতে তিনি মারা যান। ১১ মে ধনবাড়ীতে নিজ মাটিতে সমাহিত হলেন। এখানেই তাঁর কবরজগতের শুরু হলো। এখানেই তিনি থাকবেন অনন্ত কাল অব্ধি। রফিক ভাইএর মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি এমন এক বৈরি সময়ে যখন তাঁর শেষ যাত্রাতেও সামিল হতে পারলাম না। তাই, বার বার তাঁর সেই কথাটিরই প্রতিধবনি কানে বাজছে, আরে মিয়া একদিনও আইলেন না’?

না, আসব! আপনার সাথে সাথেই আমরা আছি। আমাদের সবার গন্তব্যও একই। পার্ধক্য যা, আপনি একটু আগে গেলেন, আমরা পশ্চাতেই আছি। আপনার কবর জগৎ আল্লাহ সুখময় করে তুলুন, আমীন।

মন্তব্য করুন