তাহমিনা কবীর: প্রচলিত আছে নন্দকিশোরের নাম অনুসারে কিশোরগঞ্জের নাম রাখা হয়। তিনিই নরসুন্দা নদীর তীরে একটি গঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে নন্দকিশোরের গঞ্জ বললেও লোকেমুখে পরিবর্তিত হয়ে কিশোরগঞ্জ হয়।

আইজ্জো কইবাম কিশোগঞ্জ জেলার দর্শনীয় জাগা লইয়া। কত জাগা যে আছে গুরার মত না ফরলে জানবাইন কেমনে? অততা জাগা এল্লাইজ্ঞে দুই বারে দেম। আইজ্জো

দর্শনীয় স্থান ১

নিকলী বেরিবাধ: কিশোরগঞ্জের ১৩ টি উপজেলার মধ্যে নিকলী একটি উপজেলা। মূলত হাওরের শুরু এখান থেকেই। সেই হাওর ইটনা মিটামইন,সুনামগঞ্জের টাংগুয়ার হাওর সহ বড় বড় হাওয়ারের সাথে মিলে বর্ষাকালে। নিকলী উপজেলার কুশশা, পুরুড়া,আর পৌরসভার গ্রামগুলোকে রক্ষা বাধ এটি। বর্তমানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ভ্রমনের জায়গা গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি স্থান নিকলী বেরি বাধ । এই বাধ থেকে ১/২ কিলোমিটার দূরে ছাতিরচর গ্রাম রয়েছে একটি। বর্ষাকালে এই গ্রামের চারপাশে হাওরের পানি বেষ্টিত থাকে আর গ্রাম রক্ষা করার জন্য যে গাছ গুলোকে দেখে হঠাৎ মনে হতেই পারে আপনি রাতারগুল চলে এলেন।এ যেন এক জল ও জংগলের কাব্য।

কবি চন্দ্রাবতীর মন্দির মন্দির: চন্দ্রাবতী বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম বাঙালি মহিলা কবি হিসেবে সুবিখ্যাত। চন্দ্রাবতী মন্দির বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর কর্তৃক তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। প্রকৃতপক্ষে মন্দিরটি একটি শিব মন্দির। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলাধীন মাইজখাপন ইউনিয়নের কাচারীপাড়া গ্রামে ফুলেশ্বরী নদীর তীরে শিবমন্দিরটির অবস্থান।

ঈশা খার জঙ্গলবাড়ি: মসনদে-আলা-বীর ঈশা খাঁ ছিলেন বাংলার বার ভূঁইয়াদের প্রধান। ঈশা খাঁর জঙ্গলবাড়ি প্রকৃতপক্ষে ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী ছিল।বর্তমানে এটি বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর কর্তৃক তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলাধীন কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের জঙ্গলবাড়ি গ্রামে নরসুন্দা নদীর তীরে দুর্গটির অবস্থান।১৫৮৫ সালে তৎকালীন কোচ রাজা লক্ষ্মণ হাজরা ও রাম হাজরাকে পরাজিত করে জঙ্গলবাড়ি দুর্গ দখল করেন তিনি।কোচ রাজা লক্ষ্মণ হাজরা বা ঈশা খাঁর কেউ এই দুর্গের স্থপতি নয়। এটি প্রাক-মুসলিম যুগে নির্মিত বলে ধারনা করা হয়। তবে ঈশা খাঁ দুর্গ দখল করার পর এর ভিতরে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করেন।সেই থেকে এটি ঈশা খার জংগলবাড়ি নামেই পরিচিত।

ভৈরব ব্রীজ: বাংলাদেশের অন্যতম পুরাতন সেতুর মধ্যে এটি একটি। ১৯৩৭ সালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য এটি তৈরি হয়েছিল। ভৈরব জংশনের পরে যে আকুল করা নদীর দৃশ্য দেখা যায় একটি ব্রীজ থেকে এটিই আমাদের ভৈরব ব্রীজ।মেঘনা নদীর উপরে নির্মিত এই ব্রীজটি কিশোরগঞ্জ জেলা আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে বিভক্ত করেছে।

দিল্লির আখড়া: প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো দিল্লির আখড়া কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক ও দর্শণীয় স্থান।কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত মিঠামইন উপজেলার শেষ প্রান্তে এর অবস্থান।হাওর এলাকার অন্যতম সেরা আকর্ষণ এই আখড়া। নদীর তীরে হিজল গাছের সারি, প্রাচীন দেয়াল ও অট্টালিকা, ভেতরে অপূর্ব সুন্দর পরিবেশে যেকোনো আগন্তুককে কাছে টানবে। আখড়ার ভেতরে রয়েছে আধ্যাত্মিক সাধক নারায়ণ গোস্বামী ও তার শিষ্য গঙ্গারাম গোস্বামীর সমাধি।

বুজ্জুইন তাইলে কত কিছু আছে আমরার কিশোরগঞ্জে?

নিকলী হাওয়ারের মাঝখানে একটা গ্রাম এটি। আর ঢেউ আটকানোর জন্য এই গাছ গুলো লাগানো হয়েছে। পানি যখন বেশি হয় তখন অনেক উপরে পানি থাকে। এই ছবি পানি কম যখন তখন তোলা

মন্তব্য করুন